বাচ্চাদের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায় নিরাপদ ও কার্যকর টিপস জেনে নিন

বাচ্চাদের পেট ফাঁপা প্রায় সব বাবা-মায়ের জন্যই পরিচিত একটি সমস্যা। নবজাতক থেকে শুরু করে তিন বছর বয়সী শিশুর মধ্যেও এটি দেখা যায় এবং অনেক সময় কান্না, অস্বস্তি ও ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু সঠিক তথ্য জানা থাকলে এবং কিছু নিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বাচ্চাদের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায়

এই বিস্তারিত গাইডে আমরা আলোচনা করেছি বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কী ও কেন হয়, এর সাধারণ কারণ ও লক্ষণ, পেট ফাঁপা হলে কী করণীয়, নবজাতক ও বড় শিশুদের জন্য আলাদা ঘরোয়া সমাধান, প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অভিভাবকদের জন্য এটি একটি তথ্যসমৃদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য রিসোর্স।

সূচিপত্রঃ বাচ্চাদের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায়

ভূমিকাঃ বাচ্চাদের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায়

শিশুর সুস্থতা প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ছোট বাচ্চারা প্রায়ই হজমজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভোগে, যার মধ্যে পেট ফাঁপা সবচেয়ে সাধারণ। অনেক সময় দেখা যায়, শিশু হঠাৎ অস্থির হয়ে যায়, পা মুড়ে ধরে, কান্না বাড়ে কিংবা পেট শক্ত হয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ ১ কেজি গরুর মাংস রান্নার সঠিক রেসিপি জেনে নিন

 তখন অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান এবং বুঝতে পারেন না কী করবেন। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করেছি বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কী এবং কেন হয়, বাচ্চাদের পেট ফাঁপার কারণ ও লক্ষণ কীভাবে চিনবেন, বাচ্চাদের পেট ফাঁপা হলে কি করণীয়,

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কমানোর ঘরোয়া উপায় ও বাচ্চাদের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায় কী কী। পাশাপাশি নবজাতকের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায়, নবজাতকের পেট ফাঁপা দূর করার ঔষধ সম্পর্কে 

প্রাথমিক ধারণা, ছোট বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কমানোর উপায় এবং ৩ বছরের বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কমানোর উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই গাইডটি পড়লে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে শিশুর যত্ন নিতে পারবেন।

বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কী এবং কেন হয়

পেট ফাঁপা মূলত গ্যাস জমে যাওয়ার একটি সমস্যা। যখন শিশুর পাচনতন্ত্রে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হয় বা জমে থাকে, তখন পেট ফুলে যায় এবং অস্বস্তি তৈরি হয়। ছোট বাচ্চাদের হজম প্রক্রিয়া পুরোপুরি পরিপক্ব না হওয়ায় এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

নবজাতকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপার অন্যতম কারণ হলো দুধ খাওয়ার সময় বাতাস গিলে ফেলা। বোতল বা বুকের দুধ খাওয়ার সময় যদি শিশুর সঠিক পজিশন না থাকে, তবে বাতাস ঢুকে যেতে পারে এবং পরে তা গ্যাসের আকারে সমস্যা তৈরি করে।

এছাড়া, কিছু খাবার শিশুর শরীরে গ্যাস তৈরি করতে পারে। মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুর ক্ষেত্রেও মায়ের খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পেট ফাঁপা শুধুমাত্র শিশুর সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক হজমজনিত বিষয়।

এই সমস্যা সাময়িক হলেও, সঠিকভাবে বোঝা জরুরি। কারণ দীর্ঘদিন পেট ফাঁপা থাকলে শিশুর ঘুম, খাওয়ার আগ্রহ এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

বাচ্চাদের পেট ফাঁপার কারণ

বাচ্চাদের পেট ফাঁপার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অপরিপক্ব পাচনতন্ত্র। জন্মের পর শিশুর অন্ত্র ধীরে ধীরে পরিপক্ব হয়, তাই প্রথম কয়েক মাস গ্যাসের সমস্যা বেশি দেখা যায়।

ভুল পদ্ধতিতে দুধ খাওয়ানোও একটি বড় কারণ। যদি শিশুকে শোয়ানো অবস্থায় দুধ খাওয়ানো হয় বা ফিডিং বোতলের নিপল ঠিক না হয়, তবে বাতাস বেশি ঢুকে যায়। এর ফলে গ্যাস তৈরি হয় এবং পেট ফাঁপে।

কিছু খাবার যেমন ডাল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার ইত্যাদি বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে গ্যাসের কারণ হতে পারে। আবার কোষ্ঠকাঠিন্য হলেও পেটে গ্যাস জমে যায়।

কখনো কখনো অ্যালার্জি বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের মতো সমস্যাও পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুধু ঘরোয়া উপায় নয়, বরং ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি।

বাচ্চাদের পেট ফাঁপার লক্ষণ

পেট ফাঁপার লক্ষণ চিনতে পারলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। সাধারণত শিশুর পেট শক্ত ও ফুলে থাকা, বারবার কান্না করা এবং অস্থির আচরণ এই সমস্যার প্রথম লক্ষণ।

অনেক শিশুকে দেখা যায়, তারা পা ভাঁজ করে পেটের দিকে টেনে রাখে। এটি মূলত পেটের অস্বস্তি কমানোর একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

কিছু ক্ষেত্রে শিশুর ঢেঁকুর না ওঠা, অতিরিক্ত বাতাস বের হওয়া বা পায়ুপথ দিয়ে গ্যাস বের হওয়াও লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। খাওয়ার পরপরই কান্না শুরু হলে পেট ফাঁপার বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।

যদি এর সাথে জ্বর, বমি বা পাতলা পায়খানা যুক্ত হয়, তবে সেটি সাধারণ পেট ফাঁপা নাও হতে পারে। তখন দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বাচ্চাদের পেট ফাঁপা হলে কি করনীয়

প্রথমেই শিশুকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অতিরিক্ত কান্না গ্যাসের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। শিশুকে কোলে নিয়ে সোজা করে রাখলে অনেক সময় ঢেঁকুর উঠে যায় এবং আরাম পায়।

আরো পড়ুনঃ ২০২৬ সালের নতুন মডেলের খাটের ডিজাইন ছবি ও দাম

দুধ খাওয়ানোর পর অবশ্যই ঢেঁকুর করানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি একটি ছোট কাজ হলেও পেট ফাঁপা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

শিশুর পেট হালকা হাতে ম্যাসাজ করা যেতে পারে। এতে অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক হয় এবং গ্যাস বের হতে সাহায্য করে। তবে জোরে চাপ দেওয়া যাবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যদি সমস্যা বারবার হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে নিজে থেকে কোনো শক্তিশালী ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কমানোর ঘরোয়া উপায়

ঘরোয়া কিছু সহজ অভ্যাস পেট ফাঁপা কমাতে দারুণভাবে কাজ করে। নিয়মিত ঢেঁকুর করানো তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর।

শিশুকে প্রতিদিন কিছু সময় পেটের উপর উপুড় করে শোয়ানো (tummy time) গ্যাস বের হতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই নজরদারিতে রাখতে হবে।

হালকা গরম সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে পেট ম্যাসাজ করা যেতে পারে। এতে পেটের পেশি শিথিল হয় এবং আরাম পাওয়া যায়।

বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হালকা গরম পানি পান করানো, মৌরি ভেজানো পানি অল্প পরিমাণে দেওয়া (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী) উপকার দিতে পারে।

বাচ্চাদের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায়

পেট ফাঁপা দূর করার জন্য ধারাবাহিক যত্ন জরুরি। শুধু একদিন চেষ্টা করলে হবে না, বরং দৈনন্দিন রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

খাওয়ানোর সময় শিশুর মাথা একটু উঁচুতে রাখুন। এতে বাতাস কম ঢোকে। খাওয়ানোর পর কমপক্ষে ১০–১৫ মিনিট সোজা করে কোলে রাখুন।

খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। শিশুর বয়স অনুযায়ী ব্যালান্সড খাবার দিন।

এগুলো মেনে চললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই বাচ্চাদের পেট ফাঁপা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

নবজাতকের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায়

নবজাতকের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ তাদের শরীর খুবই সংবেদনশীল। নবজাতকের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সঠিক পজিশনে বুকের দুধ খাওয়ানো।

দুধ খাওয়ানোর পরপরই ঢেঁকুর করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মা এই বিষয়টি অবহেলা করেন, কিন্তু এটি গ্যাস প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

হালকা হাতে পেট ম্যাসাজ এবং পা সাইকেলের মতো নাড়ানো (bicycle movement) নবজাতকের জন্য নিরাপদ ও উপকারী একটি কৌশল।

কোনো ধরনের ভেষজ পানীয় বা উপাদান নবজাতককে দেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নবজাতকের পেট ফাঁপা দূর করার ঔষধ

অনেক অভিভাবক পেট ফাঁপা হলেই ওষুধ দিতে চান, কিন্তু এটি সবসময় নিরাপদ নয়। নবজাতকের ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার সিমেথিকন (simethicone) জাতীয় ড্রপ দিতে পারেন, যা গ্যাস ভেঙে বের হতে সাহায্য করে। তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করতে হবে।

নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ প্রতিটি শিশুর শারীরিক অবস্থা আলাদা। যদি পেট ফাঁপার সাথে জ্বর, বমি, খাওয়ায় অনীহা বা অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখা যায়, তবে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। 

নবজাতকের পেট ফাঁপা দূর করার জন্য কিছু পরিচিত ঔষধ নিচে তুরে ধরা হলোঃ

ওষুধের নাম

উপাদান

কী কাজে ব্যবহার হয়

আনুমানিক দাম

Infacol Drops

Simethicone

নবজাতকের গ্যাস ও পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে

৳১৮০ – ৳২২০

Ovol Drops

Simethicone

পেটে জমে থাকা গ্যাস ভাঙতে সাহায্য করে

৳৬০ – ৳৯০

Mylicon Drops

Simethicone

শিশুদের গ্যাস ও অস্বস্তি কমাতে ব্যবহৃত

৳২০০ – ৳২৫০

Colic Aid Drops

Simethicone + ভেষজ উপাদান

পেট ব্যথা ও গ্যাস কমাতে সহায়ক

৳১২০ – ৳১৬০

Woodward’s Gripe Water

ভেষজ উপাদান

হালকা গ্যাস ও অস্বস্তি কমাতে ব্যবহৃত

৳৯০ – ৳১২০

নোট: এগুলো শুধুই তথ্যের জন্য। নবজাতককে কোনো ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

ছোট বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কমানোর উপায়

ছোট বাচ্চারা যখন ধীরে ধীরে শক্ত খাবার খেতে শুরু করে, তখন পেট ফাঁপার সমস্যা নতুন করে দেখা দিতে পারে। এই সময় খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

আরো পড়ুনঃ ১ কেজি গরুর মাংস রান্নার সঠিক রেসিপি জেনে নিন

অতিরিক্ত চিনি, চকলেট, ফাস্টফুড জাতীয় খাবার গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই এগুলো সীমিত রাখা ভালো।

বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পানি পান করানো হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, যা পেট ফাঁপা কমাতে সহায়ক।

নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক নড়াচড়া ছোট বাচ্চাদের হজম শক্তিশালী করে এবং গ্যাসের সমস্যা কমায়।

৩ বছরের বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কমানোর উপায়

তিন বছর বয়সী বাচ্চাদের হজম ক্ষমতা তুলনামূলক ভালো হলেও, ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে পেট ফাঁপা হতে পারে। এই বয়সে শিশুর খাদ্য তালিকা আরও বৈচিত্র্যময় হয়, তাই সচেতন থাকা জরুরি।

প্রতিদিন খাবারের মধ্যে শাকসবজি, ফল এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখা উচিত। এগুলো হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাসের সমস্যা কমায়।

একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকা নয়, বরং দৌড়ঝাঁপ ও খেলাধুলার সুযোগ দিলে হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে।

এই বয়সের বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও যদি পেট ফাঁপা বারবার হয়, তবে ডাক্তারের সাথে কথা বলে খাদ্য তালিকা ও লাইফস্টাইল নিয়ে পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

উপসংহারঃ বাচ্চাদের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাচ্চাদের পেট ফাঁপা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, সঠিক যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই আর্টিকেলে আমরা বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কী এবং কেন হয়, এর কারণ ও লক্ষণ, কী করণীয়, এবং বিভিন্ন বয়সী শিশুর জন্য নিরাপদ ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

মনে রাখতে হবে, প্রতিটি শিশু আলাদা এবং তার শরীরের প্রতিক্রিয়াও আলাদা হতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায় কাজে না দিলে বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতন অভিভাবকত্বই পারে শিশুকে সুস্থ ও স্বাভাবিক শৈশব উপহার দিতে।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ )

১. বাচ্চাদের পেট ফাঁপা কতদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক?

নবজাতকের ক্ষেত্রে প্রথম ৩–৪ মাস পেট ফাঁপা তুলনামূলক স্বাভাবিক। তবে সমস্যা বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

২. ঢেঁকুর না তুললে কি পেট ফাঁপা বাড়ে?

হ্যাঁ, ঢেঁকুর না তুললে গিলে ফেলা বাতাস পেটে জমে গ্যাস তৈরি করে এবং অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

৩. নবজাতককে ঘরোয়া পানীয় দেওয়া কি নিরাপদ?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নয়। নবজাতকের জন্য বুকের দুধই যথেষ্ট। অন্য কিছু দেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৪. কোন খাবারগুলো বাচ্চাদের পেট ফাঁপা বাড়াতে পারে?

অতিরিক্ত মিষ্টি, ফাস্টফুড, গ্যাস তৈরি করে এমন সবজি ও প্রসেসড খাবার বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়াতে পারে।

৫. কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

যদি পেট ফাঁপার সাথে জ্বর, বমি, খাওয়ায় অনীহা, রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা যায়, তাহলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url